জয়নাল আবেদীনঃ জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন ব্যয়ের ৪০ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে রংপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন। একই সঙ্গে দেশীয় কৃষি ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর দাবি করে অন্তবর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাচারি বাজারের ডাকঘর মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, সংগঠক ফুলবাবু, আউয়াল প্রমুখ।সমাবেশে আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো কৃষি উপকরণ ও ফসলের বাজার ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। তার অভিযোগ, মজুতদার ও সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবসায়ীরা কৃষকদের উচ্চমূল্যে উপকরণ কিনতে এবং কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করছে। ফলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা আলু, ধান ও পেঁয়াজ চাষে ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনছেন। এর সঙ্গে বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ বছরও আলু ও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কিছু কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ধানের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।আহসানুল আরেফিন তিতু বলেন, সরকার ২ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কৃষকরা চাল উৎপাদন করেন না, উৎপাদন করেন ধান। মিলমালিকরাই এ ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছেন।
খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন না, মধ্যস্বত্বভোগীরাই সে সুযোগ নেয়।তিনি আরও বলেন, সরকার ধানের মূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৪শ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও কৃষকরা বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তাই হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টন ধান কেনার দাবি জানান তিনি।

