কেশবপুর প্রতিবেদক: যশোরের কেশবপুরে গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়ি থেকে চুরি করে নেওয়া সাতটি গরু মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর রেখে পালিয়েছে চোরেরা। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার আলতাপোল ও মঙ্গলকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রোববার গভীর রাতে আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের সুকুমার কুমারের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। পরে গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। একই রাতে মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির তিনটি গরুও চুরি করে নিয়ে যায় তারা। রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ফজরের আজানের সময় গরু চুরির বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর মসজিদের মাইকে গরু চুরির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গরুগুলো পিকআপে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল চোরেরা। মাইকে ঘোষণা শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থান থেকে সাতটি গরুই উদ্ধার করে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেন।
স্থানীয়দের ধারণা, চোরেরা গরুগুলো পিকআপে তোলার আগেই মাইকে ঘোষণা হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় চোরেরা গরু বাঁধা মালেক মোড়লের মেহগনি বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতল ফেলে যায়।
এদিকে রবিউল ইসলাম রবির পরিবারে মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটে গেছে শোকের ঘটনা। গত শুক্রবার তার ছোট ভাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবারের সেই শোক কাটতে না কাটতেই বাড়ির তিনটি গরু চুরি যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কেশবপুরে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের মধ্যে কেশবপুরে গরু চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে—এমন আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
একদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে রাতের আঁধারে কৃষকের গবাদিপশু চুরি হওয়ায় তাদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-চুকনগর মহাসড়ক ব্যবহার করে চোরেরা দ্রুত গরু নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই মহাসড়কসহ গরু চুরিপ্রবণ এলাকায় পুলিশের রাতের টহল জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশের পাহারা ও নজরদারি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

