কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে (১০) বলপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগে হাবিবুল্লাহ (২৫) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের ‘মৌমিতা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুল্লাহ দলদলিয়া ইউনিয়নের দোখলা পাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে বছরখানেক আগে উক্ত মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। মঙ্গলবার রাতে পড়াশোনা শেষে আবাসিক কক্ষে শিশুটি ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহ তাকে নিজের বিছানায় ডেকে নেন। এরপর মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে বলাৎকার করেন। এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে ঘটনাটি কাউকে না বলতে ভয় দেখান ওই শিক্ষক।
পরদিন বুধবার সকালে শিশুটি বাড়ি ফিরে স্বজনদের কাছে নির্মম এ ঘটনার কথা তুলে ধরে। পরিবার দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ঘটনা শোনার পরই শিশুটির মা উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযানে গিয়ে মাদ্রাসা থেকে হাবিবুল্লাহকে আটক করে।
এদিকে শিক্ষকের শিক্ষকতার আড়ালে এমন অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসার সামনে জড়ো হন। চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে ধরে মারধর করে।
আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানজিরুর ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। পাশাপাশি গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত শিক্ষককেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

