
বাংলাদেশ প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করার ঘটনা ঘটেছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব না দিয়ে পুলিশে পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকরা।
পুলিশি নথি ও থানায় জমা পড়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বাগআঁচড়া এলাকার আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আছিয়া খাতুন শিমুল নামের এক নারী শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, আসাদ ও তার স্ত্রী বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। টাকা ফেরত চাইলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত ও মারধর করা হয়। এ সংক্রান্ত চিকিৎসার নথিপত্রও থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। আম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক অভিযোগ করেন, ফরমালিন ব্যবহারের মিথ্যা অজুহাত ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসাদ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। বাগআঁচড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মো. জামাল হোসেন জানান, সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আসাদ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এসব লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক এবং সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার না করে পেশাদার সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে পাল্টা অভিযোগের পথ বেছে নেন আসাদ। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোরের নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের শিকার সাংবাদিকরা হলেন, বাগআঁচড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যশোর প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক ও এশিয়ান টেলিভিশনের যশোর প্রতিনিধি সেলিম আহম্মেদ, নাভারন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক প্রতিনিধি মোফাজ্জল হোসেন রাজু, বেনাপোল বন্দর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক প্রভাতফেরীর মাসুদুর রহমান শেখ, বাগআঁচড়া প্রেস ক্লাবের প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের ডাকের প্রতিনিধি সোহাগ হোসেন, আইসিটি সম্পাদক ও দৈনিক গ্রামের কাগজের শাহারুল ইসলাম রাজ, সাংবাদিক হাসানুল কবির। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, তারা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, বরং থানায় ভুক্তভোগীদের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত সংবাদে কোনো ভুল থাকলে নিয়মানুযায়ী প্রতিবাদ বা সংশোধনের পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও এভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া বাকস্বাধীনতার ওপর হামলা ও হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়। এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন জানান, সম্প্রতি সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, “আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলোও তদন্তাধীন। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে আসাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
