সামাজিক সাম্য টেকসই গণতন্ত্রের অঙ্গীকার: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা এলজিআরডি মন্ত্রীর

0
সামাজিক সাম্য টেকসই গণতন্ত্রের অঙ্গীকার: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা এলজিআরডি মন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। রোববার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সরকারের এ অবস্থান পরিষ্কার করেন।

বিগত ১৭ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সব কাজেরই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনিয়মের তদন্ত হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং আইনের নীতি, সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, এই বিভাগটি সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই স্থানীয় সরকারের সেবাগুলো তৃণমূলের মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়ে পুরো শাসনব্যবস্থাকে জনবান্ধব করা হবে।

বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় প্রান্তিক মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দরিদ্রদের সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সংবিধান সম্মত ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

সরকারের মূল শক্তি জনগণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ের মাধ্যমেই প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। দল হিসেবে বিএনপি তৃণমূলের রাজনীতিক চর্চা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

এর আগে সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় যোগ দেন মন্ত্রী। প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিবসহ সব কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।