রংপুর ব্যুরোঃ শাশুড়ির সামনে বাবাকে অপমান ও পরে বাবার দেওয়া একটি থাপ্পড়ের জেরে জন্মদাতা বাবাকেই নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এই তুচ্ছ কলহের জেরে নিহত হয়েছেন মাহাবুর ওরফে মহুবর হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহত মাহাবুর হোসেন ওই এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। আর ঘটনার মূল অভিযুক্ত ঘাতক ছেলে মো. হাসানুর রহমান (২২)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত হাসানুর রহমানের শাশুড়ি তাদের বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাসানুর তার শাশুড়িকে বসতে না বলা কিংবা আপ্যায়নে অবহেলা করলে পরিবারে এক ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ সময় বাবা মাহাবুর হোসেন ছেলেকে শাশুড়িকে যথাযথ সম্মান ও যত্ন করার উপদেশ দেন। ছেলে তাতে রাজি না হলে ক্ষুব্ধ হয়ে পিতা মহুবার রহমান শাশুড়ির সামনেই ছেলেকে একটি চড় (থাপ্পড়) মারেন।
শাশুড়ির সামনে বাবার হাতে চড় খাওয়ার ঘটনাটিকে চরম অপমানজনক মনে করেন ক্ষিপ্ত হাসানুর। বিকেলে এ নিয়ে পারিবারিক তর্কাতর্কি ও কথা-কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে হাসানুর বাসায় থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সজোরে বাবার পেটে একাধিক আঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মাহাবুরকে উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমান। পীরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘাতক ছেলেকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।

