কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রেমের অবৈধ সম্পর্ক ও পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার জেরে বিরোধের জেরে মাসুদ মিয়া (৪০) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ভাগিনা মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মাসুদ মিয়া উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। নিজ গ্রামেই তিনি ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মাসুদ মিয়া তার নিজ দোকানের পাশের একটি মুদি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় ভাগিনা শিপন মিয়া সুকৌশলে তাকে দোকান থেকে ডেকে কিছু দূরে অন্ধকার একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাসুদ মিয়ার ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত শুরু করে শিপন।
দুজনের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘাতক শিপন দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় মামা মাসুদ মিয়ার।
নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে এক নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার অবৈধ প্রেমের ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তিন সন্তান রেখে তাকে ছেড়ে চলে যান। এর পর থেকে তিনি নিজ ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন।
প্রায় তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একই উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের শাহেদাগোপ গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে মামার মোবাইল ফোন থেকে সুকৌশলে ওই নারীর নম্বর সংগ্রহ করেন ভাগিনা শিপন। এরপর তিনিও সেই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আর তাতেই মামা-ভাগিনার মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও পাকাপোক্ত করতে মামা মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন শিপন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর ক্ষুব্ধ হয়ে শিপনকে মারধর করেন মাসুদ মিয়া।
এরপর থেকে শিপন বিভিন্ন মানুষের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতেন, ওই নারীকে পেতে হলে ‘মামা মাসুদকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে হবে’। পরিবারের ধারণা, মূলত এই চরম আক্রোশ ও ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে মামাকে খুন করেছে ভাগিনা শিপন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত শিপন মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে এবং সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

