দুই কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারতে মোংলা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী আসছেন আজ

0
দুই কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারতে মোংলা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী আসছেন আজ

সাইফুল ইসলাম কবিরঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থসামাজিক রূপান্তরের বার্তা নিয়ে বাগেরহাটে এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরসহ পুরো জেলা জুড়ে এবং রূপসা-কাটাখালী অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উপচে পড়া আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফরে বাগেরহাটের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের মূল সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

সকাল ১০:০০ টা (মোংলা বন্দর) হেলিকপ্টারযোগে অবতরণের পর তিনি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ এবং চীনা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’ (CRCC)-এর মধ্যে কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ও নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

সকাল ১০:৩০ টা (জেটি নির্মাণ উদ্বোধন) মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় অত্যাধুনিক দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণকাজের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বন্দর দিয়ে পণ্য খালাস-উত্তোলন গতিশীল হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

সকাল ১১:১৫ টা (কাটাখালী মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ) মোংলা থেকে সড়কপথে বাগেরহাট সদরে যাওয়ার পথে ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দুপুর ১২:৪৫ টা (খানজাহান আলী (রহ.) মাজার জিয়ারত) ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন।

দুপুর ১:১৫ টা (খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা) মাজার পরিদর্শনের কর্মসূচি শেষে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট ত্যাগ করবেন তিনি।

উৎসবমুখর এই পরিবেশের মাঝেও বাগেরহাটবাসীর প্রধান প্রত্যাশা—প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হবে।

স্থানিয়দের সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রত্যাশা বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং জেলাতেই বিশেষায়িত চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে স্থানীয়দের চিকিৎসার প্রয়োজনে খুলনা বা ঢাকায় ছুটতে না হয়। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার এবং পানগুছি নদীর ভাঙন থেকে নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো এবং উপকূলীয় তরুণদের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের নতুন খাত তৈরি করা।

স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের মতে, মোংলা বন্দরের লজিস্টিক সক্ষমতা এবং সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধাগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর পুরো খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।