হাঁড়িপাতিল ধোয়ার কাজ থেকে মার্কিন সিনেটর: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবার বাজিমাত বাজিতপুরের শেখ রহমানের!

0
হাঁড়িপাতিল ধোয়ার কাজ থেকে মার্কিন সিনেটর: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবার বাজিমাত বাজিতপুরের শেখ রহমানের!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ একসময়ের ৩.৩৫ ডলার মজুরির থালাবাসন ধোয়ার কাজ করা বাংলাদেশি অভিবাসী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব— শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন (শেখ রহমান নামে খ্যাত) আরও একবার ইতিহাস লিখলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসন থেকে আবারও সিনেটর পদে বিজয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই শীর্ষ রাজনীতিক। সাধারণ নির্বাচনে তার বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তিনি সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের কৃতি সন্তান শেখ রহমানের এই টানা বিজয়ে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী সমাজে আনন্দের জোয়ার বইছে।

এর আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখামুখি হন শেখ রহমান।

প্রাইমারি রেসের ফলাফল: ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রবিন ম্যাককয়কে (৫,১৬৬ ভোট) হারিয়ে ৬,১৮৮ ভোট পেয়ে চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন পান তিনি।

সাধারণ নির্বাচন: অঙ্গরাজ্যটির ডিস্ট্রিক্ট-৫-এর প্রাথমিক ফলাফলেই তার ঝুলিতে জমা পড়ে ৩৫,১০১টি ভোট। অবশেষে বিরোধী কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হন।

শেখ রহমানের এই অর্জন কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, এটি কঠোর পরিশ্রম ও মার্কিন রাজনীতিতে নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছিলেন (পাওয়ার অব ওয়ার)। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর রহমান ভারতের আগরতলায় ‘জয় বাংলা যুব শিবির’-এর ক্যাম্প সুপারভাইজার ছিলেন। ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

কঠোর সংগ্রাম ও স্নাতক অর্জন: যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখার খরচ চালাতে তিনি শুরুতে একটি রেস্তোরাঁয় ঘণ্টায় মাত্র ৩.৩৫ ডলার মজুরিতে থালাবাসন ধোয়ার (ডিশওয়াশার) কাজ নেন। পরবর্তীতে কষ্টার্জিত অর্থ ও মেধার জোরে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে সফলভাবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রথম ইতিহাস সৃষ্টি (২০১৮): ২০১৮ সালে প্রথমবার জয়ী হয়ে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর হওয়ার নজির গড়েন। শুধু তাই নয়, তিনিই প্রথম এশিয়ান-আমেরিকান যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (DNC) নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে জায়গা করে নেন।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামের এই সন্তানকে নিয়ে গর্বিত তার পরিবার ও এলাকাবাসী। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য এবং শেখ রহমানের ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল জানান, বড় ভাইয়ের অর্জনে তাদের পুরো পরিবার আজ আনন্দিত।

শেখ রহমানের মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে সততা ও কঠোর পরিশ্রমে এতদূর এসেছে। আমার আশা ও প্রার্থনা, সে যেন একদিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে আরও বড় পদে উন্নীত হয়, এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নও পূরণ করে!”

পরিবার জানিয়েছে, টানা বিজয়ের পর চলতি মাসের শেষ দিকেই বাংলাদেশে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসার কথা রয়েছে সিনেটর শেখ রহমানের।