আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ গ্রেপ্তার

0
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীনঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এই হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং আদালত কর্তৃক ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত।

ড. হাসিবুর রশীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেবজাহ উদ্দীন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রাতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে আইনের আওতায় আনা হয়। ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার এই আত্মত্যাগ সারা দেশে আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সরকার পতনের পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ও তীব্র দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ। সরকার পতনের মাত্র চারদিন পর, অর্থাৎ ৯ আগস্ট তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক ছিলেন। অবশেষে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের অভিযানে সাবেক এই উপাচার্য গ্রেপ্তার হওয়ায় জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদের পরিবার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।