কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অপরাধ চক্রের আস্তানায় এক সফল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরের আলো ফোটার আগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি সচল বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন এবং ২৭ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় বড় ধরনের অস্ত্র ও মাদক চালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবতীসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৪ এপিবিএন সূত্র জানায়, উখিয়ার ১ নম্বর (ইস্ট) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের বসতঘরে মাদকের একটি বড় ধরনের বেচাকেনা এবং অস্ত্রধারীদের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট গোপন খবর আসে পুলিশের কাছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীনের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল গঠণ করা হয়।
ভোররাতে লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের অপারেশন ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জানে আলম মুনশীর নেতৃত্বে এপিবিএনের চৌকস টিম পুরো বাড়িটি চারপাশ থেকে কর্ডন (ঘেরাও) করে ফেলে। পুলিশের আকস্মিক উপস্থিতিতে পালানোর চেষ্টাকালে তিনজনকে অবরুদ্ধ করা হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয় মো. জাহিদ হোসেন (৩৮) তাঁর দেহ তল্লাশি করে কোমর থেকে ৫ রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি লোডেড বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর হেফাজত থেকে আরও ২টি অতিরিক্ত ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর সাথে থাকা একটি ব্যাগ থেকে একাই ৪০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।
নুর সেহেরা (১৮) আটককৃত এই তরুণীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার পিস ইয়াবা। আব্দুল হামিদ (৩২) তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা।
এপিবিএন জানিয়েছে, জব্দকৃত মোট ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে এপিবিএন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের পর উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চক্রের সাথে ক্যাম্পের আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

