সাভার প্রতিনিধিঃ ঢাকার সাভারে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক এলাকায় দুই শিশুকে ধর্ষণের লোমহর্ষক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। অবুঝ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। পৃথক দুটি অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত দুই লম্পট বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (২০ মে) দুপুরে বনগ্রামের একটি মুদি দোকানে এবং বৃহস্পতিবার (২১ মে) পার্শ্ববর্তী পাঁচগাছিয়া মহল্লার একটি ভাড়াবাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা দুটি ঘটে।
সাভারের আমিন বাজার ইউনিয়নে প্রতিবেশী মাত্র ৭ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রাজ্জাক পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কেশবপুর বাজেমহল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। সে সাভারের পাঁচগাছিয়া এলাকার একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করত।
আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান “৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এসেছে। এই ন্যাক্কারজনক অপরাধের প্রেক্ষিতে সাভার মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
এদিকে, সাভার মডেল থানাধীন বনগাঁও ইউনিয়নের পাছ বনগ্রাম এলাকায় স্কুলের টিফিন চলাকালীন পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানিকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
লম্পট শাহজাহান ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া গ্রামের মৃত ইরফান আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বনগ্রামে একটি মুদি দোকান দিয়ে সেখানেই বসবাস করে আসছিল।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের বিরতি হলে সে পাছ বনগ্রাম এলাকার শাহজাহানের মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানে অন্য কোনো ক্রেতা না থাকার সুযোগে বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায় শাহজাহান।
সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে লম্পট শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরে এবং ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
স্কুল ছুটির পর শিশুটি ক্রন্দনরত অবস্থায় বাড়ি ফিরে তার আপন চাচাকে এই পৈশাচিক নির্যাতনের কথা বিস্তারিত খুলে বলে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী মুদি দোকানটি ঘেরাও করে লম্পট শাহজাহানকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, শিশু ধর্ষণের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে নামে। মুদি দোকানি শাহজাহানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসা এবং আইনি প্রমাণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বৃদ্ধের এমন বিকৃত লালসার শিকার হওয়ার ঘটনায় সাভার জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

