নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজ প্রতিষ্ঠানের এক তরুণী আবাসিক শিক্ষিকাকে (১৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাওলানা বেলাল হোসেন ওসমানী (৪৫) নামের এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকাকে হেনস্থার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
গত শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৬টার দিকে ফতুল্লা থানার পূর্ব লামাপাড়া এলাকার ‘জামিয়া ওসমানিয়া মহিলা মাদ্রাসায়’ এই কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত মাওলানা বেলাল ওই এলাকার মৃত ওসমান গণির ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী শিক্ষিকা নিজেই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা মডেল থানার পূর্ব লামাপাড়া মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন মাওলানা বেলালের নিজস্ব ভবনের নিচতলায় ‘জামিয়া ওসমানিয়া মহিলা মাদ্রাসা’ অবস্থিত। ভুক্তভোগী তরুণী মাত্র দুই মাস আগে ওই মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসাটিতে যোগদানের পর থেকেই লম্পট ও কামুক স্বভাবের বেলাল হোসেন ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। শিক্ষিকা তার এসব প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে চলতেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে আবাসিক শিক্ষিকা যখন নিজের কক্ষে অবস্থান করছিলেন, তখন মাওলানা বেলাল অতর্কিতে তার ঘরে প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি তরুণীকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই শিক্ষিকা সম্ভ্রম বাঁচাতে সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার শুরু করলে লোকলজ্জার ভয়ে অভিযুক্ত বেলাল দ্রুত কক্ষ ছেড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে লম্পট বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এক শিক্ষিকার দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন ওসমানীকে গ্রেপ্তার করেছি। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে তাকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

