বিধবাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ: পটুয়াখালী যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0
বিধবাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ: পটুয়াখালী যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

শহিদুল আলমঃ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ, পরবর্তীতে চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো এবং হুমকির অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির।

আদালত এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতির পাশাপাশি ‘পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীহারা হন ওই নারী। এরপর থেকে তিনি তার একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। নারী রাজি না হলে শহিদুল তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন এবং সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ মার্চ সকালে শহিদুল ইসলাম ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে অবস্থিত তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রথম দফায় ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়।

এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সন্তান নষ্ট করার জন্য শহিদুল তাকে অনবরত মানসিক চাপ দিতে থাকেন। নারী এতে অসম্মতি জানালে, গত ১৮ মে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে কৌশলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে কিছু ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরলে ওই নারী জানতে পারেন, চিকিৎসকের অজুহাতে তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির জানান, “বিয়ের ফাঁদে ফেলে এক বিধবাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ এনে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগ আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, “বিষয়টি যেহেতু এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আইন ও বিচার বিভাগ সত্যতা যাচাই করবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, “আদালতের নির্দেশের অফিসিয়াল কপিটি এখনো আমরা হাতে পাইনি। কাগজের কপি পাওয়ার সাথে সাথেই আদালতের নির্দেশনা মেনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”