সেপ্টেম্বরে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বঙ্গভবনের দৌড়ে এগিয়ে আছেন ৩ জন, সরকার ও বিএনপিতে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন

0
সেপ্টেম্বরে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বঙ্গভবনের দৌড়ে এগিয়ে আছেন ৩ জন, সরকার ও বিএনপিতে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন

এনামুল হকঃ আসন্ন সেপ্টেম্বরের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তারেক রহমান সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের রদবদল ও মেরুকরণের গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠেছে। দলীয় ও সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যিনি সমাসীন হবেন, তার বর্তমান পদের ওপর নির্ভর করেই মন্ত্রিসভা, জাতীয় সংসদ এবং বিএনপির দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক পদে রদবদল আনা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ১৮০ দিনের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তিসহ একাধিক পদ-পদবিতে পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পুনর্বিন্যাস এবং উপনির্বাচন ও ভারপ্রাপ্ত পদ সামলানোর মতো ঘটনাও সামনে আসছে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একাধিক নাম নিয়ে চাটুকারিতা ও অনুমাননির্ভর আলোচনা থাকলেও ঘুরেফিরে তিনজনের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দলের মহাসচিব পদ এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনঃ নতুন রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকের পদ ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ১৯৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনিও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে দলের ভেতরেও তিনি সম্মানিত। এ ছাড়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কারণে দল তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনায় রাখতে পারে।

ড. আবদুল মঈন খান: স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য। তিনি মনোনীত হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি পদ এবং নরসিংদী-২ আসন শূন্য হবে।

তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, কোনো ধরনের তাড়াহুড়া না করে পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজনকে আনা হবে যিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও আস্থার প্রতীক। একই সাথে তারেক রহমান সরকার যেন কোনোভাবে ঝুঁকিতে না পড়ে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারা যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে—সেই বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত রূপ পাবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মন্তব্য করেন, “আমাদের দলীয় ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি করার অভিজ্ঞতা আছে। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই রাষ্ট্রপতির আসনে বসানো উচিত।”

যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তবে দলের ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কিংবা স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান অথবা জহির উদ্দিন স্বপনের নাম আলোচনায় আসছে।

অন্যদিকে চারদলীয় জোট সরকারের মতো এবারও মন্ত্রিসভার বহর বড় করার আলোচনা চলছে। সম্ভা্ব্য রদবদলে ৩ থেকে ৪ জন বা তার বেশি নতুন মন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন।

প্রবীণ ও উদীয়মানদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, জয়নুল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং তরুণদের মধ্যে এবিএম মোশাররফ হোসেন, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রকিবুল ইসলাম বকুল, নজরুল ইসলাম আজাদ, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ও এরশাদ উল্লাহ।

সংরক্ষিত নারী আসন ও টেকনোক্র্যাট কোটায়: বেগম সেলিমা রহমান, নিপুণ রায় চৌধুরী, শিরীন সুলতানা, রেহেনা আক্তার রানু এবং মাহদী আমিন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, অধ্যাপক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং শরিক দলগুলোর মধ্য থেকে আন্দালিব রহমান পার্থসহ অনেকের নাম বিবেচনায় রয়েছে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এই বড় ধরনের রদবদল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর একতিয়ারভুক্ত বিষয়। তিনি উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”