ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর প্রবাসী মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের নৃশংস ঘটনায় চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রধান আসামির বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্বরোচিত এ ঘটনায় কয়েক দিন ধরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ জমছিল। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রবি ও সোমবার রাতে স্থানীয়রা দফায় দফায় মিটিংও করেন। মঙ্গলবার সকালে কয়েকশো ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মামলার প্রধান আসামি শরিফ মিয়ার বসতবাড়িতে চড়াও হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা ঘেরাও করে বসতঘরের টিনের চাল ও বেড়া ভাঙচুর করে তা খুলে বাড়ির পাশের মাঠে স্তূপ করে রেখে আসেন। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সম্ভাব্য হামলা টের পেয়ে আসামির পরিবারের সদস্যরা আগেই গৃহস্থালি মালামাল গুটিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
মামলার বিবরণী ও পুলিশ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন এবং তিনি তাঁর ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকতেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শরীফ ও আরিফসহ ৫ জনের একটি বখাটে দল পানি পান ও কুড়াল চাওয়ার বাহানায় দরজায় কড়া নাড়ে।
ছেলে পানি নিয়ে দরজায় আসামাত্রই তাকে ধরে বারান্দার পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। ঘরে ঢুকে তারা নতুন ঘর তৈরির জন্য রাখা নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এরপর ডাকাত দলের সদস্যরা ওই নারীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।
পুরো ঘটনার বিভৎস দৃশ্য রাজিব নামে এক আসামি তার মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। যাওয়ার সময় ৩ দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে এবং ঘটনা বাইরে প্রকাশ করলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে চরের নির্জন এলাকা থেকে রাজিব (২১) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় গ্রেপ্তার এড়াতে রাজিব নিজের মুঠোফোনটি পুকুরের পানিতে ফেলে দিলেও পুলিশ পরে তল্লাশি চালিয়ে সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে শরিফ, আরিফসহ মামলার অপর চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ জানান, “প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়ার সাথে সাথে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত থেকে আইন নিজের হাতে না তোলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান জোরদার করা হয়েছে, দ্রুতই তারা ধরা পড়বে।”

