আদালত প্রতিবেদকঃ সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পেছনে নেপথ্য উসকানিদাতা হিসেবে নাম আসার পর এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাফুফের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং আইনবহির্ভূত চাকুরির অবসানের অভিযোগে ঢাকার ৩ নম্বর শ্রম আদালতে তাঁর মালিকানাধীন পোশাক কারখানা ‘অলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড’ এবং পর্ষদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কারাবন্দি এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একদিকে পোশাক খাতে নাশকতা ও কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তে গোয়েন্দা নজরদারি, আর অন্যদিকে পরিবারভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বঞ্চনার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঢাকার ৩ নম্বর শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অলিও অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিক ও কর্মীরা দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা আদায়, বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ এবং劳动法 (শ্রম আইন) লঙ্ঘনের কারণে এই নালিশি আবেদন করেন।
মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদীর পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদে থাকা তার পুরো পরিবারকে বিবাদী করা হয়েছে আব্দুস সালাম মুর্শেদী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনভয় গ্রুপ ও অলিও অ্যাপারেলস, শারমিন সালাম (চেয়ারম্যান ও সালাম মুর্শেদীর স্ত্রী), ব্যারিস্টার শেরিন সালাম ঐশী (পরিচালক ও সালাম মুর্শেদীর কন্যা), ইশমাম সালাম (পরিচালক ও সালাম মুর্শেদীর পুত্র)
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও সার্ভিস বেনিফিট বকেয়া রেখে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তৈরি পোশাক খাতের (RMG) স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ব্যবহার করে কারখানাগুলোতে উসকানি ও অর্থ জোগানের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে যে আকস্মিক শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী একাধিক ব্যবসায়ী ও সাবেক এমপির হাত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও সালাম মুর্শেদী তাঁর অনুগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কারখানাগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি এবং শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার কাজ করছিলেন বলে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুস সালাম মুর্শেদীর ওপর আইনি ও আর্থিক বেড়াজাল দিন দিন আরও শক্ত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাজধানী থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
একদিকে দুদকের দায়ের করা সরকারি জমি আত্মসাৎ মামলা এবং অন্যদিকে শ্রম আদালতের এই নতুন আইনি পদক্ষেপের কারণে সালাম মুর্শেদী ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

