মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়

0
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের অর্ধেকের মাথায় এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের ‘ভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাশাপাশি সিনেটেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের সমস্ত ক্ষমতা এখন ডেমোক্র্যাটনিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে হাতবদল হলো।

এবারের নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় বিস্ময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পটভূমি ও ফল বিশ্লেষণে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক বিজয়ের ছবি ফুটে উঠেছে।

কানসাসের সিনেট আসনে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। ১৯৩২ সালের পর অর্থাৎ প্রায় পৌনে এক শতাব্দী (৯৪ বছর) পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যটি থেকে সিনেটর নির্বাচিত হলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ভেঙে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো পরাজিত করেছেন শক্তিশালী রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে। সেই সঙ্গে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন।

পাঁচবারের নির্বাচিত প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করে সিনেট আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।

সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। আইওয়াতে প্যারালিম্পিক অ্যাথলেট জশ টুরেক হারিয়েছেন আসন ছাড়তে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টকে। এছাড়া ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদ বড় জয় এনে দিয়েছেন দলকে।

বিবিসির উত্তর আমেরিকাবিষয়ক সংবাদদাতা অ্যান্থনি জুর্চারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নির্বাচনের দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর।

ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপ ও নির্বাচনোত্তর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি (ইনফ্লেশন) নিয়ে মার্কিন জনগণের তীব্র ক্ষোভই মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে চরম নেতিবাচক ফল এনে দিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা স্পষ্ট করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দু’বছরের মাথায় সেই একক কর্তৃত্ব হারালো ট্রাম্প ও তার দল।

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে মিশ্র বার্তা পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রথমে জানিয়েছেন যে আগামী দুই বছরে আইন প্রণয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া কিংবা বারবার ভেটো দেওয়ার পরিস্থিতি এড়াতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে চান। তবে এর পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তার লাল ক্যাপের ছবি পোস্ট করেন, যাতে সংক্ষেপে লেখা ছিল— ‘VETO’ (ভেটো)।

এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমার নাম সরাসরি ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো”—যদিও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জোর প্রচার চালিয়েছিলেন এবং সমর্থকদের অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্পকে ব্যালটে রেখে ভোট দেওয়ার মতো করে ভোট দিতে।

ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় এখন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, আর্থিক বরাদ্দ ও নির্বাহী আদেশগুলোর ওপর তীব্র নজরদারি রাখতে পারবে কংগ্রেস। একাধিক ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত ও অতীত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটির কাজ শুরুর পাশাপাশি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তৃতীয় অভিশংসন প্রস্তাব পাসের চাপও বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।