রাজধানীতে নাশকতার ছক: থানায় ককটেল হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হাই অ্যালার্ট জারি

0
রাজধানীতে নাশকতার ছক: থানায় ককটেল হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হাই অ্যালার্ট জারি

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকা জুড়ে রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক অভূতপূর্ব নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস, মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়, কালশী ফ্লাইওভার, ভাটারা, মিরপুর সনি সিনেমা হল এলাকা এবং পান্থপথে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হওয়া ছাড়াও চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন নগরবাসী। ঘটনার পরপরই পুরো রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হামলাটি ঘটে রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে। মিরপুরের কালশী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পল্লবী থানা প্রাঙ্গণ লক্ষ্য করে তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।

নিক্ষেপ করা একটি ককটেল থানার মূল ফটকের ঠিক ভেতরে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় স্প্লিন্টারের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-৪) সদস্য রুবেল হোসেন সামান্য আহত হন। দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, “জনমনে চরম আতঙ্ক তৈরি করতেই ফ্লাইওভারের ওপর থেকে প্রাঙ্গণে ককটেল ছোড়া হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।”

সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৮টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকা ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। টিএসসি, নওয়াব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন, নীলক্ষেত মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন এবং কুয়েত-মৈত্রী ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত ৮ থেকে ৯টি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে ৩ জনকে হাতেনাতে ধরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো—রেজাউল করিম (৪২), সোহেল রানা (৩৩) ও নাজমুস সাদ (৩৩)।

শাহবাগ থানাধীন জাতীয় জাদুঘরের সামনে, মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের সামনে বীর উত্তম শামসুল আলম সড়ক এবং সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে পান্থপথ এলাকায় পৃথক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ককটেল আতঙ্কের মধ্যেই ভাটারা থানা এলাকার নতুনবাজার ১০০ ফিট রোডে একটি খালি স্কুলবাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে, রাত পৌনে ৯টার দিকে মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এসব ঘটনায় কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও রাজপথে যানবাহনের চলাচল হঠাৎ কমে যায়।

শাহবাগ থানার ডিবি ও থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিন আসামিকে হেফাজতে নিয়ে এই সুসংগঠিত নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতাদের খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কেপিআই এলাকা এবং প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ।