বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৫ মার্চ) শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS কর্তৃক দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাব কেবল বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সরকার এখন পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, দীর্ঘকাল এই বিশাল আর্থিক চাপ বা ভর্তুকি বহন করা রাষ্ট্রের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই বর্তমানে নিম্নমুখী, যা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা জনগণের ওপর হঠাৎ করে কোনো বড় বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে সরকারি তহবিল থেকে ক্রমাগত ব্যয় চলতে থাকলে দিনশেষে তার প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে।” এই ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
উক্ত পরামর্শ সভায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার বর্তমানে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা’র নীতিতে এগোচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে সৃষ্ট চাপ সামলাতে আগামী দিনগুলোতে আরও কিছু কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ আসতে পারে।

