
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজ শনিবার সকালে প্রক্টর কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হলে আগামীকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারা রাতের অবস্থান বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান ১২ মে: বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ১৩ মে: ঘটনার প্রতিবাদে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। ১৪ মে (বৃহস্পতিবার রাত): আলটিমেটাম শেষ হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ওই দিন রাত ২টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
ফারজানা তাবাসসুম বলেন, “আমাদের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেবল অপরাধীকে ধরতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং ঘটনার তথ্য গোপন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
লিখিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, উপাচার্যের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বেশি ব্যস্ত।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারারাত অবস্থানকালে তীব্র ঠান্ডায় বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এত কিছুর পরও ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হননি। পরবর্তীতে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি আন্দোলনরত ছাত্রীদের উল্টো ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে আখ্যা দেন। প্রক্টরের এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা বলে তীব্র নিন্দা জানান শিক্ষার্থীরা।
আজকের সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নিজেদের আনা নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন।
“প্রশাসনের টালবাহানা, দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং অসংবেদনশীল আচরণ আর বরদাশত করা হবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত অপরাধী গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার সকাল থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করা হবে।”
উল্লেখ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর আশ্বাস না পাওয়ায় ক্যাম্পাস জুড়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
