হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

0
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কৌশলী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ আংশিক অবরুদ্ধ থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দ্রুত গুটিয়ে নিতে আগ্রহী তিনি। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্প তার অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বর্তমান পরিকল্পনার মূল নির্যাস হলো, প্রণালি খোলার দীর্ঘমেয়াদী ঝক্কিতে না গিয়ে আপাতত ইরানের নৌবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া। ট্রাম্প মনে করছেন, এই জলপথ পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার ‘জটিল অভিযান’ চালাতে গেলে যুদ্ধ তার নির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সামরিক শক্তি দিয়ে প্রণালি খোলার বদলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে বাণিজ্যিক চলাচলের পথ খুলে দিতে বাধ্য করা।

যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে যাতে তারা নিজস্ব উদ্যোগে হরমুজ প্রণালি সচল করার দায়িত্ব নেয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে ট্রাম্প আরব দেশগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ বা অর্থায়ন চাইতে পারেন। লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধের খরচ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। এটি তার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলবেন।”

বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথটি আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের এই নতুন কৌশল মূলত মার্কিন বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী চোরাবালিতে আটকা পড়া থেকে রক্ষা করার একটি প্রয়াস বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।