মার্কিন আধিপত্যে মস্কো-বেইজিংয়ের চপেটাঘাত: ইরানের পাশে দাঁড়ালো দুই মহাশক্তি

0
মার্কিন আধিপত্যে মস্কো-বেইজিংয়ের চপেটাঘাত: ইরানের পাশে দাঁড়ালো দুই মহাশক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিম এশিয়ায় যখন বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মার্কিন ‘একক মোড়লগিরি’র মূলে কুঠারাঘাত করল বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি রাশিয়া ও চীন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হোয়াইট হাউসের ক্রমাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ব্যক্ত করেছে মস্কো ও বেইজিং। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ইরানের ‘জন্মগত অধিকার’, যা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।

বেইজিং সফরে থাকা রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব গত ৫০০ বছর ধরে উপনিবেশবাদ ও দাসপ্রথার যে মানসিকতা লালন করে আসছে, আধুনিক যুগে তার কোনো স্থান নেই। অন্যের সম্পদ লুটে খাওয়ার দিন ফুরিয়ে এসেছে।

২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন জোটের ছায়াযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) এবং এর আগে পরমাণু কেন্দ্রে হামলার মাধ্যমে ইরানকে দমানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। লাভরভ স্পষ্ট করেছেন যে, হোর্মুজ প্রণালীতে ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ ছিল মার্কিন নৌ-অবরোধের একটি যৌক্তিক জবাব।

রুশ-চীন জোটের দাবি, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রেখে নিজের আখের গোছাতে চাইছে। ন্যাটোর বিস্তার এবং ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমাদের উস্কানির যেভাবে জবাব দিচ্ছে মস্কো, ঠিক একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাশে থেকে মার্কিন আধিপত্য রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ইরানকে রণক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। চীনের দৃঢ় অর্থনৈতিক সমর্থন ইরানকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেও টিকে থাকার প্রাণশক্তি যোগাচ্ছে।

এই সংঘাত কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন এককেন্দ্রিক বিশ্বের বিরুদ্ধে একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার লড়াই। লাভরভ এবং চীনা প্রতিনিধিদের এই কূটনৈতিক অবস্থান প্রমাণ করে যে, তাইওয়ান প্রণালী থেকে শুরু করে দক্ষিণ ককেশাস পর্যন্ত—সবখানেই পশ্চিমাদের একচ্ছত্র দাপট এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।