মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডোবানোর হুঁশিয়ারি: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এখন রণতরীমুখী

0
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডোবানোর হুঁশিয়ারি: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এখন রণতরীমুখী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার প্রস্তুত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

সাক্ষাৎকারে রেজায়ি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো এখন সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে তাক করা হয়েছে। শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আমরা তাদের রণতরীগুলো সাগরে ডুবিয়ে দেব।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে দমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া নৌ অবরোধের পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক পরাজয়’ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ইরানের হাতে এখনও এমন অনেক কৌশলগত সক্ষমতা রয়েছে যা তারা এখনও ব্যবহার করেনি।

রেজায়ি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইসফাহানে প্যারাট্রুপার নামিয়ে ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখলের চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইউরেনিয়াম দখল করে একটি সাফল্যের গল্প তৈরি করতে, কিন্তু আমাদের সতর্ক পাহারায় তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে রেজায়ি জানান, দীর্ঘায়িত যুদ্ধবিরতি ইরানের স্বার্থের অনুকূল নয়। তার ভাষ্যমতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের অধিকার নিশ্চিত করে প্রস্তাব পাস হলেই কেবল স্থায়ী শান্তি সম্ভব। ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় প্রতিটি শব্দের খুঁটিনাটি বিষয়ে ইরান চরম সতর্ক থাকবে। হয় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত মেনে নিতে হবে, অথবা তারা যুদ্ধে পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক হলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। ইরানের দাবি, আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ইরানের এই সমরপ্রস্তুতির ঘোষণা নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করছে।