আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের নীল জলরাশিতে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান ও প্রয়োজনে সেগুলো জব্দের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সবুজ সংকেত পেলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সাগরে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে পারে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাম্প্রতিক ‘খবরদারি’ এবং জাহাজ চলাচলে বাধার জবাবেই বাইডেন প্রশাসন এই কঠোর অবস্থান বেছে নিয়েছে। যদিও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মার্কিন এই প্রস্তুতির খবরটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী—হরমুজ প্রণালী। পরিস্থিতির ক্রমবিকাশ এক নজরেঃ সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো ফলপ্রসূ সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
তেহরান জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগে উপসাগরীয় এলাকায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কড়া অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শুক্রবার প্রণালীটি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিলেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সুর বদলে পুনরায় তা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় ইরানি সামরিক বাহিনী।
বৈশ্বিক তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে সামান্যতম সামরিক অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন যদি সত্যিই ইরানি জাহাজ জব্দ করা শুরু করে, তবে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি সিল করে দিতে পারে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

