আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের ওপর নতুন করে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা অবকাঠামোতে হামলার চেষ্টা চালালে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ সম্মুখীন হতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির বিশেষায়িত সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি সরাসরি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দিয়েছেন।
সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র’ হামলার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জেনারেল মুসাভি স্পষ্ট করে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি মনে করে তারা সংক্ষিপ্ত অভিযান চালিয়ে পার পেয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে করুণ দশা হয়েছে, আপনাদের রণতরিগুলোর ভাগ্যেও ঠিক তাই অপেক্ষা করছে। শত্রুর অপারেশন সংক্ষিপ্ত হলেও ইরানের পাল্টা জবাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত কঠোর।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক বিকল্প নিয়ে ব্রিফিং করেছেন। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক সম্পদ ও নেতৃত্ব লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিমান হামলা।
বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কবজায় নেওয়া। হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল বা সম্পূর্ণ নৌ-অবরোধ আরোপ করা।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করা বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি ‘চূড়ান্ত আঘাত’ বা বড় ধরনের অভিযানের পথও খোলা রেখেছেন।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, দেশ তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। তেহরান ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে তারা ‘নতুন কার্ড’ বা কৌশল ব্যবহার করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন রণতরি লক্ষ্য করে ‘স্মার্ট টার্গেটিং’।
বর্তমানে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তাপ চরমে। মার্কিন বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমান এবং হাইপারসনিক মিসাইল ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েনের খবরের পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে সুদীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা আসায় পুরো বিশ্ব এখন একটি বড় সংঘাতের আশঙ্কায় দিন গুনছে।
জেনারেল মুসাভি তার বার্তার শেষে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জানান, আগ্রাসন চালানো হলে ইরান এমন ‘বেদনাদায়ক’ পাল্টা আঘাত হানবে যা শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারছে না।

