আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তেরো বছর আগের সেই অভিশপ্ত ‘নির্ভয়া’ স্মৃতি ফের উসকে দিল ভারতের রাজধানী। এবার দিল্লির বুকে এক চলন্ত স্লিপার বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের নারকীয় অভিযোগ উঠেছে। গা শিউরে ওঠা এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণী মঙ্গোলপুরীর একটি কারখানায় কর্মরত এবং পিতমপুরার বাসিন্দা। গত সোমবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত ১২টা নাগাদ সরস্বতী বিহার এলাকায় পৌঁছান তিনি। একটি স্লিপার বাস সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি বাসের এক কর্মীর কাছে সময় জানতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ওই ব্যক্তি তাঁকে বাসের কাছে আসতে প্রলুব্ধ করে এবং জোরপূর্বক ভেতরে টেনে নেয়।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটি চলতে শুরু করলে ভেতরে থাকা চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে বন্দি করে ফেলে। কয়েক কিলোমিটার পথ চলার সময় চলন্ত বাসের স্লিপার বার্থেই তাঁকে দফায় দফায় গণধর্ষণ করা হয়।
সরস্বতী বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিম দিল্লির নাংলোই পর্যন্ত চলে এই নারকীয় তাণ্ডব। পাশবিক নির্যাতনের পর নাংলোই মেট্রো স্টেশনের কাছে নির্জন রাস্তায় তরুণীকে ফেলে রেখে বাস নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বাসটির গতিবিধি ট্র্যাক করে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। বাসের ভেতর থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির রাস্তায় এক চলন্ত বাসে জ্যোতি সিং ওরফে ‘নির্ভয়া’র ওপর যে নৃশংসতা চলেছিল, এই ঘটনা যেন হুবহু তারই পুনরাবৃত্তি। সেই ঘটনার পর ভারতের ধর্ষণ আইনে ব্যাপক কড়াকড়ি আনা হলেও, দিল্লির রাজপথে নারীদের নিরাপত্তা যে আজও তলানিতে—এই ঘটনা তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
“আমরা অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়েছি। ঘটনার সময় বাসে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না এবং ওই বেসরকারি বাসটির রুট পারমিট সঠিক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও নারী অধিকার কর্মীরা।

