আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, তবে থাকল ‘মুহূর্তের নোটিশে’ ধ্বংসযজ্ঞের হুঁশিয়ারি

0
আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, তবে থাকল ‘মুহূর্তের নোটিশে’ ধ্বংসযজ্ঞের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর বিশেষ অনুরোধ এবং একটি সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির ইতিবাচক আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, চুক্তি সফল না হলে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর আছড়ে পড়বে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ও বড় আকারের হামলা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতারা তাকে ইরানের ওপর হামলা না চালাতে এবং চলমান আলোচনাকে সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছেন।

“আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। এই চুক্তির মূল শর্তই হলো— ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”- ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করলেও কিছুটা সন্দিহান রয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।”

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে বিরত রাখতে আরব দেশগুলোর মরিয়া চেষ্টার পেছনে রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তার চরম উদ্বেগ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর, তেহরানও দমে যায়নি। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে জবাব দেয়।

আরব দেশগুলোর ভয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন আবারও ইরানে বড় কোনো হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং সমুদ্রের পানি মিষ্টি করার প্রধান শোধনাগারগুলোর (Desalination plants) ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে সামনে তীব্র গরমের মৌসুম আসায় পানি শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপর্যয় নেমে আসবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব মার্কিন জনগণের কাছেও ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে ট্রাম্পের রেটিংয়ে।

সোমবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা-র একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে জড়ানো আমেরিকার একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ফলে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক চাপও ট্রাম্পকে এই মুহূর্তে কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার জবাবে চুপ করে নেই তেহরানও। ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হোয়াইট হাউস যেন নতুন করে কোনো ‘কৌশলগত ভুল’ বা ‘হিসাব-নিকাশের গড়বড়’ না করে। যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।