হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

0
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল সমুদ্রসীমা হরমুজ প্রণালি ও ইরানের ওপর জারি থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক নতুন কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করার পরপরই তা ‘সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ’ আখ্যা দিয়ে অনতিবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

শুক্রবার (২৯ মে) নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সম্ভাব্য এই মার্কিন-ইরান চুক্তির বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত ও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ শিগগিরই তুলে নিতে প্রস্তুত, যাতে বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারে। তবে এর বিনিময়ে তেহরানকে প্রধানত দুটি শর্ত মেনে নিতে হবে: ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার করতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে যদি কোনো সামুদ্রিক মাইন পাতা থাকে, তবে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ইতিমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনী বেশ কিছু মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের নিখুঁত হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সহায়তায় উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের এই স্বঘোষিত চুক্তির শর্তাবলী প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ একপেশে এবং ‘সত্য ও মিথ্যার মিশেল’ বলে অভিহিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচনে বা আন্তর্জাতিক মহলে নিজের একটি ‘ভুয়া বিজয়’ (Fake Victory) জাহির করতেই খসড়া চুক্তির মূল ধারাগুলোকে অত্যন্ত বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন।

ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্প যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির মতো নিজেদের কৌশলগত জলসীমায় কোনো ধরনের ‘টোলমুক্ত’ বা উন্মুক্ত চলাচলের বিষয় খসড়া চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই।

তেহরানের মূল অভিযোগ, ট্রাম্প তার সুবিধাবাদী বক্তব্যে চুক্তির আসল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ চেপে গেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ বা তহবিল অবমুক্ত (Unfreeze) করার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন। লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পর্দার আড়ালের যে আলোচনা চলছে, ট্রাম্পের পোস্টে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আল জাজিরায় প্রকাশিত এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় ধরনের কোনো রফাদফা বা সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে চূড়ান্ত রূপরেখা আসার আগেই ট্রাম্পের আগাম কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা এবং ইরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলসীমার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।