‘যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে’: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের স্পিকারের হুঁশিয়ারি

0
‘যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে’: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের স্পিকারের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ তুলেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর বেআইনি নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শীর্ষ কূটনীতিক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না; বরং যুদ্ধের অবসান ঘটানোই এখন তেহরানের একমাত্র অগ্রাধিকার।

ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন “ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের (ইসরায়েল) যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধিই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মানছে না। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের একটি নির্দিষ্ট মূল্য থাকে এবং সেই বিল একসময় পরিশোধ করতেই হয়। এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন জোটের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অবরোধের দিকে ধাবিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে তেহরানে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) পরিষ্কার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক কর্মসূচির বিবরণ নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা সচল নেই।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০.৯ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর “জিরো এনরিচমেন্ট” বা শূন্য শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের শর্ত চাপাতে চাইলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বাঘাই বলেন, “পারমাণবিক বিষয়ে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান এবং একমাত্র অগ্রাধিকার হলো অঞ্চলে চলমান এই বিধ্বংসী যুদ্ধের অবসান ঘটানো।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আজ সোমবার সকালেও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ হওয়া যেকোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ায় লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের দাবি, লেবাননকে সুরক্ষিত না করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দফতর থেকে সম্প্রতি ইরানের কাছে আরও কঠোর একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নৌ অবরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা এই মুহূর্তে গভীর অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে।