
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে এবং এডিস মশার বিস্তার রুখতে একগুচ্ছ দূরদর্শী ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা, ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল ছাড় এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি এ বছর কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা ভুল না হয়, সে জন্য আগামী সপ্তাহ থেকেই চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এই প্রশিক্ষণ থেকে চিকিৎসকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে যে— ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ঠিক কোন ধরনের পরীক্ষা করতে হবে। কোন পরিস্থিতিতে কী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। সামগ্রিক চিকিৎসা প্রোটোকল ও গাইডলাইন কেমন হবে।
সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার খরচ নাগালের মধ্যে রাখতে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে মোট বেডের ১০ শতাংশ সিট ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি ও ফ্রি (বিনামূল্যে) রাখতে হবে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই ফ্রি বেডের মোট সংখ্যা কত, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তালিকা আকারে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু নির্ণায়ক পরীক্ষাগুলোতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে।
দেশের মানুষের মনে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন নিয়ে তৈরি হওয়া কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ডেঙ্গু ভ্যাকসিন এখনো সারা বিশ্বে সর্বজনীন বা পুরোপুরি কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। তাই বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো ডেঙ্গু ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না।
কেবল চিকিৎসা নয়, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে এবার মাঠ পর্যায়ে কঠোর হচ্ছে সরকার। সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে সক্রিয় থাকবে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত)। লার্ভা নিয়ন্ত্রণে কোনো বাসা-বাড়ি, বহুতল ভবনের ছাদ কিংবা পরিত্যক্ত বাথরুম ও ওয়াশরুমে জমা পানি পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (জরিমানা ও কারাদণ্ড) নেওয়া হবে।
জনগণকে সচেতন করতে আগামী শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে বর্ণাঢ্য র্যালিসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। মন্ত্রী জানান, শুধু একদিনের জন্য নয়, এই বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আগামী ৩ মাস ধরে দেশব্যাপী একযোগে চলমান থাকবে।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর অবস্থানের কারণে চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
