‘বটতলার উকিল’ অপবাদ ও বিচারপাড়ার দৈন্য: অবহেলিত আইনজীবী, উপেক্ষিত বিচারপ্রার্থী

0
‘বটতলার উকিল’ অপবাদ ও বিচারপাড়ার দৈন্য: অবহেলিত আইনজীবী, উপেক্ষিত বিচারপ্রার্থী

সাইফুল আলমঃ বাংলাদেশের মফস্বল এলাকার প্রায় প্রতিটি জেলা আদালতের প্রাঙ্গনে একটি বটগাছ দেখা যায়। অনেকে কোনো কোনো আইনজীবীকে খাটো করার জন্য ব্যঙ্গ করে বটতলার উকিল বলে কটুক্তি করে

আদালত প্রাঙ্গণের বটবৃক্ষটি শুধুই এক টুকরো ছায়া নয়, বরং দেশের বিচার ব্যবস্থার চরম অবকাঠামোগত সংকটের এক নীরব স্মারক। ‘সমাজ বিনির্মাণের কারিগর’ হিসেবে সমাদৃত আইনজীবীদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘বটতলার উকিল’ বলা হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে তীব্র আসন সংকট ও রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবহেলা।

দেশে বর্তমানে নথিভুক্ত আইনজীবীর সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি। তবে দেশের ৬৪টি জেলা আদালতের সিংহভাগ বার ভবনেই এই বিশালসংখ্যক আইনজীবীর বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এক-একটি জেলা বারে গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার সদস্য থাকলেও আসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ জনের। অবকাঠামোগত এই করুণ দশার কারণে বাধ্য হয়ে অনেককেই প্রখর রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বা গাছের তলায় আইনি পরামর্শ দিতে হয়।

প্রতিবছর বিচার বিভাগে বিপুল বাজেট বরাদ্দ হলেও আইনজীবীদের ভৌত অবকাঠামো ও পেশাগত মানোন্নয়নে কোনো সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ থাকে না। আধুনিক যুগেও জেলা বার ভবনগুলোতে লিফট, ফটোকপিয়ার, কম্পিউটার, ওয়াইফাই কিংবা নিরাপদ সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিদ্যমান। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— বার ভবনগুলোতে নারী আইনজীবীদের জন্য পৃথক ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং বিচারপ্রার্থীদের বসার মতো ন্যূনতম মানবিক সুবিধাও অধরা।

কেবল ভৌত অবকাঠামোই নয়, নবীন আইনজীবীদের টেকসই ইন্টার্নশিপ ভাতা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় বার কাউন্সিলগুলো কেবল মরণোত্তর ‘বেনেভোলেন্ট ফান্ড’-এর মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। প্রভাবশালী মক্কেলদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এই আইনজীবীরা নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে না পারায়, দিনশেষে ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত বিচারিক সেবা।

লেখকঃ আইনজীবী

০১৭১১৯৪২২৯৪