বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পত্রটি পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় রদবদলটি সম্পন্ন হলো। একইসঙ্গে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হলো—যেখানে সরকারে থাকা বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) দায়িত্ব পালন করবেন।
আইন অনুযায়ী, এই পদ শূন্য হওয়ার পর থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন এবং বঙ্গভবনে পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করা হয়। তবে স্পিকার দেশের বাইরে (থাইল্যান্ড সফরে) থাকায় এতদিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্পিকার দেশে ফেরার পরই যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন সাবেক এই বিচারক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। পাঁচ বছরের মেয়াদে ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তার অপসারণের দাবি ওঠে। বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মুখোমুখি হতে হলেও সংসদ ভেঙে দেওয়া ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সংকটময় দিনগুলোতে তিনি দায়িত্ব পালন করে যান।
বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি নিজের মেয়াদে তিনটি ভিন্ন সরকারপ্রধানকে (শেখ হাসিনা, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারপ্রধান) শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। ৯ এপ্রিল ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন।

