দুদকের ১৫ দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

0
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

আদালত প্রতিবেদকঃ ঢাকার মূল্যবান এলাকায় অবস্থিত ১৮টি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রিতে দরপত্রের অনিয়ম ও ১২৭ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি অভিযোগের মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ১৫টি মামলার শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান সব আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মির্জা আব্বাস ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য ২১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রিতে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরের পরিত্যক্ত বাড়ি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করে। দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ১০৯ (সহযোগিতা) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

বিগত ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনে দুদক।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্ধারণ করা বেশি মূল্যের প্রাক্কলন বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্যের দরপত্র গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ ছিল, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা আব্বাস নিজের অসৎ উদ্দেশ্যে এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নামে এই বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।

১৫টি মামলার সবকটিতেই মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে অভিন্ন আসামি করা হয়। এর বাইরে ব্যবসায়ী ও অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পৃথক মামলায় যুক্ত করা হয়েছিল। আদালত সকল মামলার অভিযুক্তদের নির্দোষ ঘোষণা করেন।

খালাসপ্রাপ্ত উল্লেখ্য ব্যক্তিবর্গ মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ আকবর সোবহান (বসন্ধুো গ্রুপ), হাসনা আহমেদ, এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহীদ আলম, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া ও আলী হায়দার চৌধুরী |

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসব মামলা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মির্জা আব্বাসকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা ও হয়রানির লক্ষ্যেই ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে দুদক এই মামলাগুলো করেছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় এবং আদালত অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সব আসামিকে সম্মানজনক খালাস দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।