এ এম মিজানুর রহমান বুলেট: দেশের দক্ষিনাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী উপকুলীয় জনপদ পটুয়াখালীর মহিপুরে বেড়েছে ছাদ কৃষি ও সেই সাথে নতুন ভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী।
মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. সেলিম গাজী, তিনি অসময়ে ব্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। অসময়ে থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রংয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। এই তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে অন্যরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। আর ছাদে রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ। তরমুজ একটি উৎকৃষ্ট ও তৃপ্তিদায়ক ফল। গরমের দিনে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়, যা পূরণ করতে সাহায্য করে তরমুজ। এ ছাড়াও তরমুজে রয়েছে লাইকোপিন, যা একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
সেলিম গাজী বলেন, বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর দিয়ে সার তৈরি করে তা দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজে বীজ চারা করেন। ৫০টি থানায় ছাদে তরমুজের চারা রোপন করি। প্রথম দিকে বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ২৫টি থানা চারা ভাল ছিল। তাতে ৪০ পিছ তরমুজ হয়েছে। এই লাভ তাঁর পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসঙ্গে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ হয় খুবই কম। এ ছাড়া আগাছা হয় না বলে পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেওয়ার ঝামেলাও নেই। কৃষক সেলিম গাজীর ভাষ্য মতে, জৈষ্ট্য মাসে প্রথম দিকে চারা রোপন করেন। অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউটুব চ্যানেলের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত ও সার এবং ঔষধ দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ জানেন। এর পর প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ ছাদে চাষ করেন। এ তরমুজ শেষ হলে সামনে দিকে ৫০ থানা জিওব্যাগের মাধ্যমে করবেন বলে তিনি জানান। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি ক্ষেত প্রস্তুত করেছেন বলে জানান।
ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামে তার বাড়ীতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে একটি ছাদে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে লাল জালি দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানা গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। দেখতে যেন কালোর সমারোহ। পোকা দমনে ব্যবহার হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী। তার তরমুজ চাষে সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন। আমি পরামর্শ দিয়েছি। এক কথায়, কালো রঙের তরমুজ চাষে কৃষক সেলিম গাজী চমক দেখিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী বলেন, সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, ছোট পরিসরেও সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো.আরাফাত হোসেন বলেন, বর্ষা মউসুমে মালচিং পদ্ধতি তরমুজ চাষাবাদ করা ভাল। কারন হলো বস্তা করলে কিছু দিনের মধ্যে বস্তা পচে যায়। তরমুজ একটি লাভ জনক ।এ রকম আরো কেহ করলে আমরা সহযোগিতা করব।

