ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী যে-ই হোক, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, বিগত নির্বাচনের অনিয়মে জড়িত এবং ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে পরিচিত কোনো কর্মকর্তাকে কোনোভাবেই নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ময়মনসিংহের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনে কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) ২০২৫ এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ করার পরামর্শ দেন।
“অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া আমাদের কেবল রাষ্ট্রীয় নয়, নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।” মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে উপদেষ্টা বলেন: চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর হিসেবে পরিচিত কাউকে প্রিজাইডিং বা পোলিং অফিসারের দায়িত্বে রাখা যাবে না। বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা অনিয়মে জড়িত ছিল বা যারা রাজনৈতিকভাবে ‘দলকানা’ ও বিতর্কিত, তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে রাখতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সততা যাচাই করার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত সমন্বয় সভা করার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যহ অফিস শুরু বা শেষে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আচরণবিধি নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। যাতে অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা তাদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং অতিরিক্ত আইজিপি (ফিন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং র্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরাও এই সভায় অংশ নেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান মাঠ পর্যায়ে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

