বাংলাদেশ প্রতিবেদক: শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে ও রাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফা সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
রাত পৌনে ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আবারও ‘যমুনা’ অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কাঁটাবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে অবস্থান নেয়। বর্তমানে শাহবাগ থানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, পুলিশের হামলায় সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আহতদের তালিকায় রয়েছেন: ফাতেমা তাসনিম জুমা (ডাকসু নেত্রী), শান্তা আক্তার (জকসু নেত্রী), সালাউদ্দিন আম্মার (রাকসু জিএস)
আরও অন্তত ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাত ৯টা ১৩ মিনিটে সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে জানানো হয়, “আন্দোলনের মাঝে ‘লীগ’ কর্মীরা মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।” তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, ‘যমুনা’ ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ শুরুতে ধৈর্য দেখিয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা জলকামানের ওপর উঠে পড়লে এবং ব্যারিকেড ভাঙলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, পুলিশ কোনো ধরনের প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেনি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় যানচলাচল সীমিত রয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা করেছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না।

