বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের রাষ্ট্রাচার বা প্রোটোকল সংস্কৃতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি বিলাসবহুল গাড়ি নয়, বরং নিজের কেনা সাধারণ টয়োটা গাড়িতে চড়েই আজ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন তিনি। শুধু গাড়ি নয়, জ্বালানি খরচ থেকে শুরু করে যানজট নিরসন—সবক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন এক নজিরবিহীন মিতব্যয়িতা।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও বিএনপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে এই পরিবর্তনের নেপথ্যের ৫টি বড় চমক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তিনি ব্যবহার করছেন নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিজস্ব চালক। এমনকি গাড়ির জ্বালানিও কেনা হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে। আজ সাভার স্মৃতিসৌধ ও সচিবালয়ে তিনি নিজের সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে চড়েই যাতায়াত করেছেন।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ গাড়িবহর (এজকর্ট) ছেঁটে ফেলা হয়েছে। আগে ১৩-১৪টি গাড়ির বহর থাকত। এখন মাত্র ৪টি গাড়িতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্ট। তাছাড়া, সাধারণ চলাচলের সময় তিনি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করছেন না; তবে বিদেশি মেহমান বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রোটোকল অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা পোশাকধারী পুলিশের যে প্রথা দীর্ঘদিনের, তা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই কঠোর নির্দেশনা।
এতদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কারণে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের আসা-যাওয়ায় বড় ধরনের জট সৃষ্টি হতো। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ বৈঠক সচিবালয়েই অনুষ্ঠিত হবে। আজ বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকটিও সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে নিজের গাড়িতে চড়ে সাভার স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুপুরে সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা। ১ নম্বর ভবনের তিনতলায় নির্ধারিত কার্যালয়ে জীবনের প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই “ডাউন টু আর্থ” বা সাধারণ জীবনযাপন পদ্ধতি আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে—বিলাসিতা নয়, জনসেবাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

