মিশন ‘১৮০ দিন’: তিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাপুটে অভিষেক

0
মিশন ‘১৮০ দিন’: তিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাপুটে অভিষেক

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সাভারের স্মৃতিসৌধ থেকে সচিবালয়—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম কর্মদিবসটি ছিল যেমন আবেগঘন, তেমনি কর্মতৎপরতায় ঠাসা। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর বুধবারই (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে। প্রথম দিনেই তিনি মন্ত্রিসভা ও সচিবদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন: “জনগণ ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে, এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।”

সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের তিনতলায় নিজের সুসজ্জিত দপ্তরে প্রথম অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা (Priority Plan) ঘোষণা করেন। তাঁর সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো: বাজার নিয়ন্ত্রণ: পবিত্র রমজান সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা। আইনশৃঙ্খলা: সারা দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি। জ্বালানি স্বস্তি: ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা।

বিকেলে সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনে আর ‘অ্যাফিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা হবে না। কে কোন দলের অনুসারী সেটি বিবেচ্য নয়, কাজের মূল্যায়ন হবে মেধার ভিত্তিতে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে সংবিধান ও বিধি অনুযায়ী বাস্তবায়নে সচিবদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, জনগণ এবার সুশাসন ও জবাবদিহিতা চায়। কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে সরকারের অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’।

সরকারের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেখা যায়নি অন্যতম আলোচিত নাম, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে। জানা গেছে, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফিরলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি শপথ গ্রহণ ও প্রথম বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি।

এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন:

সকাল: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। পূর্বাহ্ণ: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত। মধ্যাহ্ন: তেজগাঁও কার্যালয় হয়ে সরাসরি সচিবালয়ে প্রবেশ। বিকেল: মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়। সন্ধ্যা ৭:৩০: প্রথম দিনের দাপ্তরিক কাজ শেষে সচিবালয় ত্যাগ।

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে গতকাল যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এক নতুন গতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপ সাধারণ মানুষের মনে কতটা স্বস্তি ফেরাতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।