বিশেষ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ১৯ বছরের ব্যবধান, চুলে পাক ধরেছে পুরনো সহকর্মীদের, কিন্তু স্মৃতি ম্লান হয়নি এতটুকুও। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথমবার অফিস করতে এসে এক আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা করলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রথম দুদিন সচিবালয়ে অফিস করলেও, আজই ছিল তেজগাঁও কার্যালয়ে তার প্রথম কার্যদিবস। আর প্রথম দিনেই তিনি প্রমাণ করলেন, ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থেকেও পুরনোদের ভুলে যাননি তিনি।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মচারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এই কার্যালয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল তারেক রহমানের। ১৯ বছর আগে যারা তরুণ ছিলেন, আজ তাদের চুলে পাক ধরেছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী একজনকে নাম ধরে কাছে ডেকে নেন এবং করমর্দন করে পরিবারের খোঁজখবর নেন। একে একে আরও বেশ কয়েকজনকে নাম ধরে ডেকে কথা বলেন তিনি। প্রিয় নেতার এমন স্মৃতিশক্তি ও আন্তরিকতায় কর্মচারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অফিসে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাগানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি সরাসরি প্রবেশ করেন ‘রেড ব্লক’-এ, যেখানে তার নিজস্ব দফতর অবস্থিত।
দিনের প্রথম রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি হিসেবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে, ডাকটিকিট উন্মোচন শেষে তিনি মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বেগম খালেদা জিয়া এই কার্যালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন। সেই সময়কার বহু স্মৃতি বিজড়িত এই ভবনটি আজ আবারও তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিনেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত সংযোগ প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

