ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: জুনের মধ্যে মাঠ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

0
ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: জুনের মধ্যে মাঠ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার নবগঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি হবে সুপরিকল্পিত ও পর্যায়ক্রমিক। প্রথম ধাপ: দূরবর্তী ও দুর্গম জেলাগুলো থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপ: বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে প্রত্যাহার করা হবে। ৩০ জুনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্যকে তাঁদের নিয়মিত কর্মস্থলে (ব্যারাকে) ফিরিয়ে নেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের সময় কারফিউ জারির পর থেকে সেনাবাহিনী মাঠে ছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর পুলিশের অনুপস্থিতিতে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচারিক ক্ষমতাও লাভ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ নেই, তাঁদের জামিনে কোনো বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের বিদেশ ভ্রমণে অহেতুক হয়রানি বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে আইজিপির পক্ষ থেকে খাকি প্যান্ট পরিবর্তনের প্রস্তাব এলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই পুলিশের ইউনিফর্ম হিসেবে বহাল থাকছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ফলে সেনাসদস্যদের মধ্যে ক্লান্তি দেখা দিয়েছে এবং তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে ব্যাঘাত ঘটছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আগেই জানিয়েছিলেন, পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠিত হয়ে পুরোপুরি কার্যকর হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষম বলে মনে করছে কোর কমিটি।

শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর দেশের বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব এককভাবে পুলিশের কাঁধে ফিরে আসছে।