বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি সরাসরি পল্লবীতে নিহত রামিসার বাসায় যান এবং শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক এই সফরে রামিসার বাসভবন ও সংলগ্ন এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সরকারপ্রধান নিহত শিশুর পিতা-মাতাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে সাত বছরের শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত রোমহর্ষক; ঘাতকরা রামিসাকে হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে প্রথমে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ।
এই নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার পরপরই রামিসার পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার ছায়াতদন্ত ও চিরুনি অভিযান চালিয়ে পুলিশ দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। সোহেল রানা (মূল হোতা) | গ্রেফতারকৃত এবং আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। | স্বপ্না আক্তার (সোহেলের স্ত্রী) | ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সর্বাগ্রে আটক করা হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মূল আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে।
রামিসার বাবা-মায়ের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এই ধরনের জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, প্রচলিত আইনে তার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” তিনি মামলার অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

