দেশ কাঁপানো রামিসা হত্যাকাণ্ড: মাত্র ৫ দিনে সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

0
দেশ কাঁপানো রামিসা হত্যাকাণ্ড: মাত্র ৫ দিনে সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

আদালত প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২১ মে রাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আজ রোববার (২৪ মে) রেকর্ড সময়ের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হলো।

দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ ৪৭ পৃষ্ঠার এই বিস্তৃত চার্জশিটটি দাখিল করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছাস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকে নিশ্ছিদ্র করতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৩ মে) সিআইডির ল্যাব থেকে রামিসার ডিএনএ প্রোফাইলিং, ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ল্যাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরণের ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা চার্জশিটে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে কৌশলে শিশু রামিসাকে ডেকে নিয়ে যায় পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর প্রমাণ লোপাটের জন্য তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ড শেষে ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ঘাতক সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই অবস্থান করছিল। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ওই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে আলামত গোপনের সহযোগিতার অভিযোগে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে ২০ মে রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক ও জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল জানান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠলে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ মে রাতে রামিসার পল্লবীর বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। সে সময়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে রোববারের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, “ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিলের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ঈদের ছুটির পরপরই এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম (ট্রায়াল) বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুরু করা যাবে।” একই সঙ্গে রামিসা হত্যা মামলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সমসাময়িক ধর্ষণ মামলাগুলোও সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।