চিরবিদায় নিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ: লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ৮ মাস

0
চিরবিদায় নিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ: লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ৮ মাস

আজকের ডেস্কঃ ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

পারিবারিক সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন জানান, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি তিনি প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি সেখানেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিগত ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত তীব্র শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং চরম শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তোফায়েল আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পর আজ বিকেলে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান এই রূপকারের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) থাকাকালীন দেশজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেন তিনি।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালে তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি আরও ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও তিনি পুনরায় বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। যুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত ‘মুজিব বাহিনী’র (বিএলএফ) চার আঞ্চলিক অধিনায়কের একজন হিসেবে তিনি সম্মুখ সমরে ও রণকৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সদ্য প্রয়াত তোফায়েল আহমেদ রাজনীতিতে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম শীর্ষ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। মরহুমের পরিবার জানিয়েছে, জানাজা ও দাফনের বিষয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।