নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবি: শাহবাগ অবরোধে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

0
নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবি: শাহবাগ অবরোধে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলকে দ্রুত পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা শাহবাগ ক্রসিং আটকে রেখে তারা এ দাবি জানান। ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের বিখ্যাত চক মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল মিছিল বের করেন। ‘বৃহত্তর নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা অংশ নেন। মিছিলটি পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিকেল প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে আরও মানুষ মিছিলে যোগ দিলে তা এক বিশাল গণমিছিলে রূপ নেয়। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে চারদিকের রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নেয়।

শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এ সময় তাদের কণ্ঠে ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই, আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করো, জনগণের ভোগান্তি কমাও’—এমন বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, নোয়াখালী ও এর আশেপাশের জেলাগুলোর কোটি মানুষের প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় ছুটতে হয়। পৃথক বিভাগ হলে স্থান কেন্দ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম বহুগুণ গতিশীল হবে।

আলাদা বিভাগীয় সদর দফতর, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, বিভাগীয় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও শিক্ষা বোর্ড গঠিত হলে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজেই মৌলিক নাগরিক সেবাগুলো হাতের নাগালে পাবেন।

দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখার পরও অবকাঠামো ও রাজস্ব বরাদ্দের দিক থেকে এ অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। স্বতন্ত্র বিভাগ ঘোষণা করা হলে এ আঞ্চলিক বৈষম্য অনেকটাই কেটে যাবে।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এই ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেনে না নেওয়া হলে সামনে আরও কঠোর আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি থাকে। হঠাৎ শাহবাগের চারমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট এবং মৎস্য ভবনের দিকে যাওয়ার পথগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সড়কে হঠাৎ বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি থমকে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাঁদের স্বজন এবং দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে তীব্র গরমের মধ্যে গাড়ি ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। দীর্ঘ অবস্থানের পর নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারকে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার আশ্বাস এবং দাবির গুরুত্ব তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক ছেড়ে দেন। এরপর থেকে শাহবাগ দিয়ে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।