কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার মেঘনায় আয়োজিত বিশাল সমাবেশে বিএনপি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, “সুস্থ ধারার রাজনীতি বিকাশ ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দূরদর্শী ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন জননেতা।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালজয়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ শাসনের মাধ্যমে রুদ্ধ হওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার তিনি ফিরিয়ে দেন।
স্বাধীনতার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দেশকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ জিয়া এবং পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তারা দেশকে সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন।
বর্তমানে তারেক রহমান সেই আদর্শকে ধারন করে বৈষম্যহীন, উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন। তাঁর ডাইনামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এক অনন্য মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে উন্নয়ন ও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাশেম।
সমাবেশ ও আলোচনা পর্ব শেষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি মেঘনা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সম্পন্ন করে।

