বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার শান্ত পরিবেশ রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্বপরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বছরের শেষভাগ অর্থাৎ নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের সম্ভাব্য সূচি বাদ দিয়ে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ইসির এই নীতিনির্ধারণী ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বছরের শেষভাগে পরীক্ষা চলাকালে ভোট আয়োজনের জটিলতা ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক ও নানা ধরনের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু কেন্দ্র হিসেবে স্কুল-কলেজ ব্যবহারই নয়, এসব জাতীয় পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকেন। ফলে একই সময়ে এত বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার ভোট আয়োজন করা বাস্তবিক অর্থেই অনেক কঠিন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই আমরা নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ রাখছি। পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া মাত্রই আশা করছি জানুয়ারি থেকে পুরোদমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই মূল তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে সারা দেশে সাতটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছিল কমিশন। তবে সরকারের নীতিগত অবস্থান, মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশের কারণে ইসি সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।
বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে জানুয়ারির আগে নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষার ঝামেলামুক্ত রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই মুলত এই তিন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পরামর্শ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে ইসি।
নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সাথে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট করেন, “স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের কাছ থেকে আলাদাভাবে অনুমতি বা চিঠি চালাচালি করার মতো কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা প্রশাসনিক নজির নেই। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেই কাজ পরিচালনা করা হয়।”
তিনি জানান, তবে কোন কোন স্থানীয় পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা কোনগুলো এই মুহূর্তে ভোটগ্রহণের উপযোগী, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের কাছে কেবল সেই নির্বাচন উপযোগী তালিকা চাওয়ার নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। দিনশেষে বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার।
কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভোটপ্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো নতুন বছরে মাঠে নামার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার বাড়তি সময় পাচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীরাও কোনো অপ্রীতিকর গোলযোগ ছাড়া পরীক্ষা শেষ করার সুযোগ পাবে।

