আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চাঁদাবাজির বদল ঘটেছে কেবল মুখ, দাবি জামায়াতের—৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চ

0
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চাঁদাবাজির বদল ঘটেছে কেবল মুখ, দাবি জামায়াতের—৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশজুড়ে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং রাজনৈতিক সংঘাত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও এখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। একাদশ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আগামীকালের (৩১ অক্টোবর) তৃতীয় দফার লংমার্চ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন খাত এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির পুরোনো ধরন ও পদ্ধতি একই রয়ে গেছে, কেবল চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলবদল হয়েছে মাত্র। এছাড়া দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ ও ডিলারশিপ বাণিজ্যের মহোৎসবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অন্যটির গণরায় অস্বীকার করা সরাসরি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই আন্তরিক হয়, তবে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডেকে বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতায় অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

জনগণের ৭ দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে তৃতীয় দফার এই সর্ববৃহৎ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চটি অতীতের যেকোনো কর্মসূচির তুলনায় সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘ হতে যাচ্ছে।

আগামীকাল সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৬০০ থেকে দেড় হাজার গাড়ি নিয়ে সকাল ৮টায় এই বিশাল লংমার্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাসহ মোট ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা এতে অংশ নেবেন।

লংমার্চের পথিমধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালীর মোড়, খুলনার বাবরী চত্বর, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বিশাল সমাপনী জনসভার মধ্য দিয়ে এই লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে।

লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপারসহ (এসপি) সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান জামায়াত নেতা। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকেও সহযোগিতার ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় জামায়াতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।