পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ উত্তরবঙ্গ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির মূল জোগানদাতা হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে এই অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত ও দরিদ্র করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আঞ্চলিক বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই অঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ মহান আল্লাহ এখানে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো সমৃদ্ধ নদী দিয়েছেন। অব্যবস্থাপনার কারণে আজ সেই নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।”
নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “যারা শুধু ভোটের সময় এসে মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়ে এবং পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না, তাদের আমরা ঘৃণা করি। আমরা বিপদের দিনে দেশবাসীকে ফেলে পালানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, আমাদের পাঁচটি বছর সময় দিন—উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য এই সময়টুকুই যথেষ্ট।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই উর্বর মাটির মানুষকে আর বঞ্চিত রাখা যাবে না। আপনারা আমাদের পার্লামেন্টে পাঠান, আমরা সরকার গঠন করে মানুষের জীবনে প্রকৃত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনব, ইনশাল্লাহ।”
জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান, পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী ও ১০ দলের শরিক এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক তুলে দেন। পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক হস্তান্তর করেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একযোগে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

