বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ “জনগণ ফ্যাসিবাদকে একবার লাল কার্ড দেখিয়েছে, যদি কেউ নতুন করে সেই পথে হাঁটার দুঃসাহস দেখায়, তবে এবার তাদের ‘ডাবল লাল কার্ড’ দিয়ে মাঠছাড়া করা হবে।” রাজধানীর উত্তর কাফরুলে এক বিশাল নির্বাচনী গণসংযোগ ও সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-১৫ আসনের পূর্ব বাইশটেকি এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির চাকা আর পেছনে ঘুরবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে মা-বোনদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের মাথায় তুলে রাখা হবে এবং সম্মান রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ উজাড় করে দেব।” নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীদের নিয়ে করা কুৎসার নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন। যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে ‘অপমান’ না করে বরং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন আমির। তিনি বলেন, “আমরা তরুণদের দেশ চালনার ককপিটে বসাতে চাই, আর আমরা থাকব প্যাসেঞ্জার সিটে।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে সমাজে ৭০ শতাংশ শান্তি এমনিতেই ফিরে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত বিজয়ী হলে ঢাকা-১৫ আসনে কাউকে কোনো চাঁদা দিতে হবে না। তরুণ ও নারী ভোটারদের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেবে। সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটারের হাতেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি। আমার জন্য কোথাও যদি গুলি তৈরি হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ তা ঠেকাতে পারবে না। জাতির কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করতে পারাটাই সার্থকতা।”
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল এলাকা প্রদক্ষিণ করে, যেখানে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও ইনসাফ কায়েমের স্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ।

